আমি ব্লগ লেখার খুব বেশি সমর্থক কোনওদিনও ছিলাম না, সত্যি কথা বলতে কি এখনও যে আছি তা নয় । তার একটা প্রধান কারণ আমার ধারণা ব্লগ লেখার থেকেও পড়া অনেক বেশি ক্লান্তিকর । অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, অনেক সময়ই পড়তে শুরু করে শেষ করা হয়ে ওঠে না । নিজের ধৈর্য এবং/অথবা আগ্রহের অভাবকে 'ঠিক আছে, বাকিটা পরে পড়ব' জাতীয় অজুহাত দিয়ে ঢেকে দিই - আর আমরা সবাই জানি সেই 'পরে' টা আর কখনওই আসে না । তো, এই কারণে আমি ঠিক করেছি আমার ব্লগকে কখনওই অন্যের ক্লান্তির কারণ ঘটাব না, আমার ব্লগের বিষয় হবে প্রধানতঃ ভ্রমণ । আমার মতো যেসব বাঙালিরা ঘুরতে ভালোবাসে, তাদের জন্য আমার ব্লগ হবে তথ্যের একটা উৎস । আমার নিজের একটা অভ্যেস আছে, কোনও জায়গায় বেড়াতে যাওয়ার আগে সেই জায়গাটা সম্পর্কে কিছুটা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করি, আর ইন্টারনেট ঘাঁটতে গিয়ে আমার বরাবরই মনে হয়েছে যে ইন্টারনেটে লেখালেখি করার ব্যাপারে বাঙালিদের থেকে কুঁড়ে খুব কম শিক্ষিত জাতই আছে । আমার মতো যেসব বাঙালিরা আছে, যারা ইন্টারনেটে কোনো একটা ইংরিজীতে লেখা দেখলেই না পড়ার চেষ্টা করে, তাদের জন্য আমার ব্লগ সহায়ক হবে, এই বিশ্বাস নিয়ে শুরু করছি আমার ভ্রমণকাহিনী । আগেই বলে রাখি, আমি স্ট্যাটিসটিক্সের ছাত্র ছিলাম, তাই আমার ব্লগে তত্ত্বের থেকে তথ্যের দেখাই মিলবে বেশি ।

Tuesday, October 14, 2025

জুলুক ভ্রমণ

বিশেষ সতর্কীকরণ ঃ

১. এই পুরো ভ্রমণে আমরা কোনও অবস্থাতেই কোনও পলিথিন বা প্লাস্টিক ব্যবহার করিনি। অর্থাৎ প্লাস্টিকের ব্যবহার না করেও এই ভ্রমণ অনায়াসে করা যায়।

২. এই পুরো ভ্রমণে আমরা কোনও কাগজ ব্যবহার বা নষ্ট করিনি। হোটেল বুকিং-এর রশিদ-এর প্রিন্ট আউট ব্যবহারের কোনও প্রয়োজন হয় না।

৩. এই পুরো ভ্রমণে আমাদের দলের কেউ ধূমপান করেনি। ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

আমার ব্লগের সমস্ত পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করছি প্লাস্টিক, অপ্রয়োজনীয় কাগজের ব্যবহার আর ধূমপান বর্জন করার জন্য।

ভ্রমণপথ ঃ

বৃহস্পতিবার ৯ই অক্টোবর, ২০২৫ঃ কলকাতা থেকে রাত্রি ৯ঃ৪৫ মিনিটে গুয়াহাটি গরীব রথ এক্সপ্রেস।

শুক্রবার ১০ই অক্টোবর, ২০২৫ঃ সকাল ৮ঃ৩০ মিনিটে - নিউ জলপাইগুড়ি - পদমচেন - পদমচেনে রাত্রিবাস।

শনিবার ১১ই অক্টোবর, ২০২৫ঃ পদমচেন থেকে জুলুকের সাইট সিয়িং - পদমচেনে রাত্রিবাস ।

রবিবার ১২ই অক্টোবর, ২০২৫ঃ সকাল ১০ঃ৩০ মিনিটে চেক্‌ আউট - গাড়িতে মানখিম - মানখিম-এ রাত্রিবাস।

সোমবার ১৩ই অক্টোবর, ২০২৫ঃ সকাল ৮টায় চেক্‌ আউট - নিউ জলপাইগুড়ি - সন্ধ্যে ৬ঃ২০ মিনিটে গুয়াহাটি ওখা এক্সপ্রেস - রাত্রি ৮ঃ১৫ মিনিটে বারসোই - রাত্রি ১০ঃ০২ মিনিটে রাধিকাপুর কলকাতা এক্সপ্রেস।

মঙ্গলবার ১৪ই অক্টোবর, ২০২৫ঃ সকাল ৬ঃ৩৫ মিনিটে কলকাতা।

জুলুক ভ্রমণের সম্পর্কে লেখার আগে একটু পূর্বকথন দিয়ে শুরু করা যাক। জুলুক যাওয়ার পরিকল্পনা আমরা প্রথম করেছিলাম ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে - যাওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে। সেইমতো একটা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে কথা বলা, তাদের অ্যাডভান্স করা - সবই হয়ে গিয়েছিল। তারপর নভেম্বর মাসে জানা গেল অমৃতা সন্তানসম্ভবা আর ডাক্তারের নির্দেশে অতদূরে বেড়াতে যাওয়া চলবে না। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করতে হল। তখন শুধু সন্তানের সম্ভাবনার কথাই জেনেছিলাম, কিন্তু কিছুদিন পরে ইউ এস জি-র রিপোর্ট থেকে জানা গেল সম্ভাবনাটা যুগ্ম-সন্তানের ! সেই যুগ্ম-সন্তান ভূমিষ্ঠ হল, ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল কিন্তু জুলুকের উচ্চতা আর ঠান্ডা সহ্য করার মতো বড়ো হতে সময় লাগে।

এতদিনে হয়েছে বলে আমার ধারণা। আর তাই পুনর্পরিকল্পনা করে ফেলা হল - জুলুক ভ্রমণের।

পুজোর ছুটিতে ট্রেনে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার ব্যাপারে সবথেকে কঠিন সমস্যা হল টিকিট পাওয়া। তাও আবার বিশেষ করে নিউ জলপাইগুড়ির টিকিট। শিয়ালদা বা হাওড়া থেকে টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেইই দেখে আমি টিকিট কেটেছিলাম কলকাতা স্টেশন থেকে গুয়াহাটি গরীব রথ এক্সপ্রেসের। বৃহস্পতিবার ৯ই অক্টোবর, ২০২৫ আমাদের যাত্রা শুরু। আমাদের এবারের দল ১৫ জনের। আমি অমৃতা বাবা মা কথা কলি লালমাসি মেসোমশাই বুবুমাসি মেসোমশাই দিদিভাই রাজীবদা দিদি আনন্দদা আর পটাই। ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছাড়ল। দিদিভাইদের বাড়ি শ্রীরামপুরে, তাই ওরা কলকাতার বদলে ব্যান্ডেল থেকে ট্রেনে উঠল। সবাই ট্রেনে ওঠার পরে আমরা সঙ্গে নিয়ে যাওয়া রুমালি রুটি, চিলি চিকেন আর মিষ্টি দিয়ে ডিনার সেরে শুয়ে পড়লাম।

পরেরদিন শুক্রবার ১০ই অক্টোবর, ২০২৫ - আমাদের ট্রেন নির্ধারিত সময়ের একঘন্টা পরে আমাদের নিউ জলপাইগুড়িতে নামিয়ে দিল। আমরা ওয়েটিং রুমে গিয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে নিয়ে স্টেশন থেকে বেরোলাম দশটা নাগাদ। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে শেষবার এসেছিলাম দুবছর আগে সিটং ভ্রমণ থেকে ফেরার সময়ে। বাইরে বেরিয়ে দেখলাম স্টেশন চত্বরের চেহারা বদলে গেছে। স্টেশনের বাইরে বিশাল কিছু একটা কর্মকান্ড চলছে, পুরো জায়গাটা জুড়ে নানারকম নির্মাণের কাজ হচ্ছে (পরে জেনেছি নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনকে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে যার ফলে এখানে বিশ্বমানের এয়ারপোর্টের মতো টার্মিনাল তৈরি হবে যেখানে অধিক সংখ্যক যাত্রীধারণ ক্ষমতাসমেত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, বৃহত্তর পার্কিং এলাকা, সুদৃঢ় নিরাপত্তাব্যবস্থা, পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থাপনা থাকবে)। আর এই নির্মাণকান্ডের জন্য বর্তমান পার্কিং এলাকাটা স্টেশন থেকে বেশ কিছুটা দূরে চলে গেছে। মালপত্র নিয়ে এই দূরত্বটা হাঁটতে আমাদের প্রায় পনেরো মিনিট লাগল। তারপর দুটো গাড়িতে উঠে রওনা দিলাম আমাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

আমাদের যাওয়ার রাস্তা সেভক্‌ রোড ধরে। এই পথে এর আগে অনেকবার গিয়েছি আর রাস্তাটা আমার খুব পছন্দের। সমতলের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে রাস্তাটা যেন হঠাৎ করেই পাহাড়ে উঠে যায়। পাহাড়ী পথের বিবরণ আলাদা করে দেওয়ার কিছু নেই কারণ যারা এই দৃশ্য দেখেছে তাদের কাছে এর বিবরণ বাহুল্যমাত্র আর যারা দেখেনি তাদের কাছে বিবরণ দিয়ে এই সৌন্দর্য বর্ণনা করা যায় না। ব্রেকফাস্ট আমরা কলকাতা থেকেই সঙ্গে নিয়ে এসেছিলাম, গাড়ি চলাকালীন সেগুলোর সদ্ব্যবহার করে ফেললাম।

এবারের যাওয়ার পথের সম্পর্কে একটা তথ্য জানানোর দরকার, সেটা এখানে লিখে রাখি। গত বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তরবঙ্গে প্রবল বর্ষণের কারণে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এটা আমরা খবরের চ্যানেলের দৌলতে ভালভাবেই জানতাম। কিছু কিছু জায়গায় সেভক রোড 'ব্যাপকভাবে' ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যানচলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে শুনে একটা সময়ে আমাদের যাওয়া বাতিল করার কথাও ভেবেছিলাম। যাই হোক, 'পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে' - খবরের চ্যানেলের এইজাতীয় হেডলাইন সামনে আসার পর আমরাও যাওয়ার সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রেখেছিলাম। আর সেটা না করলে যে কত বড় ভুল করতাম, সেটা যাওয়ার সময়ে বুঝতে পারলাম। পুরো রাস্তায় মাত্র চারজায়গায় এরকম হয়েছে যে ধসের কারণে রাস্তার একদিকটা ভেঙে গেছে বলে অন্যদিকের সিঙ্গল্‌ লেন দিয়ে দু'দিকের গাড়ি পালা করে চলছে। একইসঙ্গে মেরামতির কাজও চলছে। এজন্য আমাদের পৌঁছতে কিছুটা দেরি হলেও পৌঁছনো অসম্ভব ছিলনা। খবরের চ্যানেল, খবরের কাগজ বিভ্রান্তিমূলক খবর প্রচার করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে কারণ তাতেই ওদের টি আর পি বাড়ে। কিন্তু এইসব ক্ষেত্রে ওদের উপর নির্ভর না করে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে আসল পরিস্থিতিটা জানা যায়। যাওয়ার আগে আমরা ঠিক সেটাই করেছিলাম।

রেস্ট্যুরেন্টের পাশে তিস্তা

এরপর একজায়গায় লাঞ্চের জন্য দাঁড়ানো হল। রেস্ট্যুরেন্টটা একেবারে তিস্তার ধারে। বারান্দা থেকে তিস্তার বাঁকের দারুণ সৌন্দর্য দেখা যায়। এখানে আমরা লাঞ্চ করলাম প্রধানতঃ মোমো আর থুক্‌পা দিয়ে, শুধু দুজন ভাত ডাল ইত্যাদি নিল। খরচ পড়ল ৩,৩৮০/- টাকা। আবার এগিয়ে চলা।


আমাদের গন্তব্য পূর্ব সিকিমের পদমচেন। আমাদের ভ্রমণ জুলুকের হলেও আমরা জুলুকে থাকিনি। কারণ জুলুক ইদানীং খুব বিখ্যাত হয়ে যাওয়ার কারণে এখানকার হোম্স্টে‌গুলোর একটু নাকউঁচু হয়ে গেছে। চার্জ বেশি আর পরিষেবা খারাপ। এইসব কারণে আমরা জুলুক থেকে ৫২ কিলোমিটার নিচে পদমচেনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি পূর্ব সিকিমে পদম্‌চে নামেও একটা জায়গা আছে। গুগ্‌লে পদমচেন সার্চ করলে ঠিক জায়গাটাই দেখায়, কিন্তু সার্চটা গুগ্‌ল ম্যাপে করলে ওটা নিজে থেকেই পদম্‌চে-তে চলে যায় কারণ গুগ্‌ল ম্যাপে পদমচেন জায়গাটার নামের ইংরিজী বানান Phadamchen. অর্থাৎ ম্যাপে পদমচেনকে খুঁজতে গেলে ফদমচেন-কে খুঁজতে হবে ! এই ফদম্‌চেন পদমচেন যাওয়ার পথে আমরা দাঁড়ালাম আমাদের প্রথম সাইট্‌সিয়িং-এ।

শ্রী বিশ্ববিনায়ক মন্দির
শ্রী বিশ্ববিনায়ক মন্দির - শ্রী বিশ্ববিনায়ক মন্দির পাহাড়ের ধারে একটা গণেশের মন্দির। গণেশের মূর্তির বৈশিষ্ট্য হল এর চোদ্দোটা হাত। এরকম মূর্তি আমি আগে কোথাও দেখিনি। মন্দিরের ভিতরটা বেশ বড়। আমরা পৌঁছেছি বিকেল সাড়ে চারটের সময়ে, তখন আমরা ছাড়া আর কোনও লোক ছিল না। মূল মন্দিরের বাইরে আরেকটা ছোট মন্দির আছে সেটা হনুমানের।






দেবাসুরের লড়াই
মন্দিরের বাইরের চত্বরটাও বেশ বড়। এর একপাশে অর্থাৎ পাহাড়ের খাদের দিকের পাঁচিলে রয়েছে সমুদ্রমন্থনের মূর্তি। দুদিক থেকে দেবতা আর অসুররা বাসুকীকে ধরে টানাটানি করছে বাসুকীর সাহায্যে সমুদ্রমন্থন করছে আর মাঝে নীলকন্ঠ শিব মন্দার পর্বতের উপর বসে রেফরি-ইং করছে। (আমি আর অমৃতা এই মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছি - আমরা ওদের টানাটানিতে সাহায্য করছি এরকম পোজ দিয়ে। বলা বাহুল্য, অমৃতা দেবতাদের দিকে আর আমি অসুরদের দিকে !)

আরও মিনিট চল্লিশেক চলার পরে আমরা দাঁড়ালাম রংলি বাজারে। এরপর আমরা যে এলাকায় ঢুকতে চলেছি সেটা সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে পড়ে, তাই এখান থেকে আমাদের প্রোটেক্টেড এরিয়া পারমিট জোগাড় করতে হল। সাধারণতঃ গাড়ির ড্রাইভার রংলি থানা থেকে এই পারমিট সংগ্রহ করে। গাড়িপিছু খরচ ১,০০০/- টাকা। রংলি বাজার থেকে কিছুটা এগোনোর পরে একটা চেক্‌পয়েন্টে দাঁড়াতে হল। এটার কথা উল্লেখ করলাম কারণ এখানে আমাদের জোর করে একটা অক্সিজেন ক্যান কিনিয়ে ছাড়ল। উপরে উঠলে অক্সিজেনের অভাব ঘটতে পারে, বয়স্ক লোকদের অসুবিধে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি বলে। আমরা জানি এই অক্সিজেন ক্যান একটা একেবারে ফালতু জিনিস, এগুলোতে কিছুই থাকে না। কিন্তু না কিনলে ওরা যেতে দেবে না, তাই বাধ্য হয়ে ৬০০/- টাকা দিয়ে কিনতে হল। জুলুক যেতে হলে এই অক্সিজেন ক্যান জিনিসটা কলকাতা থেকে কিনে নিয়ে যাওয়াই ভালো। কারণ একে তো কলকাতার ওষুধের দোকান থেকে কিনলে জিনিসটা ঠিকঠাক হবে আর সেইসঙ্গে দামও কম পড়বে। সঙ্গে একটা ক্যান থাকলে এরা এদের ক্যান কেনার জন্য জোর করতে পারবে না।

কিউ খোলা ফলস্‌
কিউ খোলা ফলস্‌ - আরও আধঘন্টা মতো চলার পরে আমরা পৌঁছলাম কিউ খোলা ফল্‌সে। ফল্‌স্‌টা রাস্তার ধারেই, তাই গাড়ি থেকে না নেমেও দেখা যায়। তবে আমরা কয়েকজন গাড়ি থেকে নেমেই দেখলাম। সন্ধ্যে ছটা বেজে গেছে, বাইরে একেবারে অন্ধকার কিন্তু কিউ খোলা ফল্‌সের কাছে বেশ বড় আলোর ব্যবস্থা আছে, তাই দেখতে কোনও অসুবিধে হয় না। ফল্‌সে ভালোই জল আছে আর জলটা বেশ উপর থেকে পড়ছে বলে শব্দও যথেষ্ট। বাইরে খুব ঠান্ডা নেই, গরম জামা না পরলেও দিব্যি চলে যায়।






আরও মিনিট পনেরো চলার পরে পৌঁছলাম আমাদের গন্তব্য - 'সাইলেন্ট উড রিট্রিট' হোমস্টে-তে। হোমস্টে-টা খুব বেশি বড় নয়, দুটো তলা মিলিয়ে বারোটা মতো ঘর যার মধ্যে চারটে সিঙ্গল রুম। হোমস্টেটা বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন - ঘরগুলো বেশ বড়। একপাশে রান্নাঘরের লাগোয়া ডাইনিং হল যেখানে একসঙ্গে ২৫ - ৩০ জন খেতে পারে। আমরা চেক্‌ইন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের পেঁয়াজের পকোড়া আর চা দিল। আর রাত সাড়ে নটায় ডিনার। ডিনারের মেনু রুটি, ডাল, আলুভাজা আর চিকেন। সাইলেন্ট উড রিট্রিটের রান্না বেশ ভালো। এইসব পাহাড়ী জায়গায় হোমস্টেগুলোতে সাধারণতঃ থাকা আর খাওয়া মিলিয়ে একটা প্যাকেজ হয়। আমাদের কার্সিয়ং ও সিটং ভ্রমণ-এর সময়ে সিটং-এও এই একই ব্যবস্থা ছিল। আর সবজায়গায় খাবারের মেনুও একই - ব্রেকফাস্টে পাঁউরুটি বা লুচি, লাঞ্চে ভাত ডিমের কারি, সন্ধ্যেবেলা পকোড়া আর ডিনারে রুটি / ভাতের সঙ্গে চিকেন।

শনিবার ১১ই অক্টোবর, ২০২৫ - আমাদের জুলুকের সাইট সিয়িং-এর দিন। আগেরদিন রাতেই হোমস্টের ম্যানেজার আমাদের বলে রেখেছিলেন যে আমাদের সকাল সকাল বেরোতে হবে, তা না হলে লাঞ্চের আগে ফিরতে পারব না। উপরে খাবারের কোনও দোকান নেই, তাই খাবার আগে আমাদের হোটেলে ফিরতে হবে। ব্রেকফাস্টে ম্যাগী খেয়ে সকাল আটটা নাগাদ আমরা রওনা দিলাম জুলুক-এর দিকে।

যাওয়ার পথে কাঞ্চনজঙ্ঘা
পদমচেনের উচ্চতা মোটামুটিভাবে ৮,৫০০ ফুট আর জুলুকের উচ্চতা ১০,০০০ ফুটের মতো। জুলুকের সবচেয়ে বড়ো আকর্ষণ হল এর বিখ্যাত সিল্করুট। পাহাড়ী পথে আমরা যতই উপরে উঠছিলাম, ততই নিচের দিকে তাকালে ফেলে আসা এই সুন্দর রাস্তাটা দেখতে পাচ্ছিলাম। পাহাড়ের গা-দিয়ে জিগজ্যাগভাবে ক্রমশঃ উপরে উঠে গেছে এই রাস্তা। যেতে যেতে একসময়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখাও মিলল।

জুলুকের বিখ্যাত জিগজ্যাগ রাস্তা
জুলুক ভিউ পয়েন্ট - ঘন্টাখানেক চলার পরে আমাদের গাড়ি একসময়ে একটা ভিউ পয়েন্টে দাঁড়াল আর আমরা গাড়ি থেকে নেমে ভালো করে এই জিগজ্যাগ রাস্তাটা দেখলাম। আকাশ ঝকঝকে পরিষ্কার আর চমৎকার রোদ উঠেছে, তাই পরিবেশটা বেশ মনোরম। ঠান্ডা আছে, কিন্তু সাঙ্ঘাতিক কিছু নয়। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাও খুব সুন্দর দেখা যায় যদিও এই দৃশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না, মেঘ এসে ঢেকে দিল। কিছুক্ষণের মধ্যে মেঘের মধ্যে জিগজ্যাগ রাস্তাটাও প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেল আর আমরা গাড়িতে উঠে আরও উপরে উঠতে শুরু করলাম।

প্রাচীনযুগ থেকে মধ্যযুগে এই সিল্ক রুট ছিল তিব্বত ও ভারতের মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ। মোটামুটিভাবে খ্রীষ্টপূর্ব দুশো থেকে পনেরোশো শতাব্দী পর্যন্ত এই পথে ভারত ও তিব্বত তথা চিনের মধ্যে বাণিজ্যিক আদানপ্রদান চলত আর জিনিসপত্রের মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিল সিল্ক যা একসময়ে তিব্বত ও চিন থেকে সারা পৃথিবীতেই রপ্তানী হত। সেই সিল্ক আসার রুট-ই সিল্ক রুট নামে পরিচিত।

গাছপালাহীন রুক্ষ পাহাড়
আমরা যে ক্রমশঃ উপরের দিকে উঠছি সেটা শুধু রাস্তা দেখে নয়, প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখেও বোঝা যাচ্ছে। জুলুকের ১০,০০০ ফুট থেকে যতই উপরে উঠছি, গাছপালার সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। পাহাড়ের গায়ে যে ছোটবড় অসংখ্য গাছ থাকে, যাদের জন্য পাহাড়ের রঙ সবুজ দেখায়, সেগুলো আর বিশেষ দেখা যাচ্ছে না। তার বদলে ছোট ছোট ঝোপঝাড় আর একসময়ে গিয়ে সেগুলোও আর দেখা না গিয়ে শুধুই রুক্ষ পাহাড়। আমি পাহাড়ের এতটা উচ্চতায় এর আগে একবারই উঠেছি গ্যাংটক ভ্রমণ-এর সময়ে কিন্তু তখন তুষারপাত হয়েছিল বলে পাহাড়ের রঙ সর্বত্রই সাদা দেখেছিলাম।

রাস্তা খুবই ভালো আর বেশ চওড়া। পুরো রাস্তায় ট্যুরিস্টের গাড়ির থেকেও যেটা বেশি চোখে পড়ে সেটা হল আর্মির গাড়ি। এই এলাকাগুলো চিনের সীমানার খুবই কাছে আর তাই এখানে নিরাপত্তারও খুব কড়াকড়ি। বেশ কয়েকটা আর্মি ব্যারাক-ও চোখে পড়ল। রাস্তায় দুজায়গায় আমাদের পারমিট চেকিং হল। কিছুক্ষণ ধরে লক্ষ্য করছিলাম যে ঘুম ঘুম পাচ্ছে। গাড়িতে একটানা যাওয়ার সময়ে ঘুম পেতেই পারে, কিন্তু গাড়ির সবাই-ই একসঙ্গে ঘুমিয়ে পড়াটা একটু অস্বাভাবিক। কথা-কলি মাঝে মাঝে বলছিল পেট ব্যাথা করছে। এগুলো সবই ঘটছে এই উচ্চতায় অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে। আগেরদিনের কেনা অক্সিজেন ক্যানটা কোনও কাজের জিনিস নয়, তবে সঙ্গে যে অব্যর্থ জিনিসটা আছে সেটা হল কয়েকটা ছোট ছোট কৌটয় কিছুটা করে কর্পূর। এটা আমরা বাড়ি থেকেই নিয়ে এসেছিলাম উচ্চতার কথা মাথার রেখে। কর্পূরের কৌটর ঢাকনা খুলে মাঝে মাঝে একটু করে শুঁকলে অক্সিজেনের অভাবজনিত অসুবিধেগুলো থেকে সাময়িক আরাম পাওয়া যায়।

ঘন্টাদেড়েক এইভাবে চলার পরে আমরা পৌঁছে গেলাম আমাদের গন্তব্যে যেটা আমাদের এবারের ভ্রমণের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বলা যেতে পারে। সেইসঙ্গে জায়গাটা আমার নিজের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পদার্পণ - এত উঁচুতে আমি জীবনে কখনও উঠিনি (আঃ বিমানে চড়ে উঁচুতে ওঠার কথা এখানে ধরা হচ্ছে না !)। এখানে ভারত আর চিনের বর্ডার - এর উচ্চতা ১৪,১৪০ ফুট ! জায়গাটার নাম নাথুলা।

নাথু লা - নাথুলা-কে নাথুলা পাস বলা যেতেই পারে, কিন্তু বললে ভুল বলা হবে (অনুরূপ সংলাপ ঋণ - সৃজিত মুখার্জী পরিচালিত 'ইয়েতি অভিযান' সিনেমা) ! এর কারণ তিব্বতী ভাষায় 'লা' কথাটার মানেই পাস, তাই আলাদা করে আর পাস বলার কোনও দরকার নেই। শুধু নাথু লা।

নাথু লায় ওঠার সিঁড়ির পথ
নাথু লায় পৌঁছে আমরা গাড়ি থেকে নামলাম। এটা একটা ট্যুরিস্ট স্পট, প্রচুর লোকজন এসেছে। গাড়ি যে পর্যন্ত যায়, তারপরে পাহাড়ের গায়ে কিছুটা সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে উঠতে হয়। কথা, কলি আর আমি এই পথটা উঠতে শুরু করলাম। কয়েকটা ধাপ ওঠার পরেই অনুভব করলাম নিঃশ্বাস নিতে একটু অসুবিধে হচ্ছে। তিনজনেই সঙ্গে থাকা হোমিওপ্যাথি ওষুধ কোকা-৩০ এর কয়েকটা বড়ি খেয়ে নিলাম। এই ওষুধও শরীরের অক্সিজেনের ঘাটতির সঙ্গে মোকাবিলা করে। ওষুধ খাওয়ার পরে আবার ধীরে ধীরে উপরে ওঠা শুরু করলাম। ওষুধটা একেবারে ম্যাজিকের মতো কাজ করে, কারণ পাঁচমিনিটের মধ্যেই অনুভব করলাম নিঃশ্বাসের সমস্যাটা আর হচ্ছে না। নাথুলার সিঁড়িগুলোর সুবিধে হল এগুলো একটা ধাপের পরে কিছুটা সমতল, তারপর আবার একটা ধাপ। একদিকে রেলিংও আছে। আর সবজায়গাতেই আর্মির লোকেরা রয়েছে, যেকোনও অসুবিধেয় পড়লে তাদের কাছে সাহায্য পাওয়া যাবে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময়ে ধীরে ধীরে একটু একটু করেই ওঠা উচিৎ, তার ফলে একদিকে যেমন ক্লান্তি কম হবে সেইসঙ্গে উচ্চতা বাড়ার কারণে অক্সিজেনের ঘাটতির সঙ্গে শরীর মানিয়ে নিতে পারবে।

বর্ডারের সামনে - পিছনের বাড়িটা চৈনিক
উপরে উঠলাম। আমাদের দলের মধ্যে শুধুমাত্র আমরা তিনজনই উপরে উঠতে পেরেছিলাম। ঠান্ডা সাংঘাতিকরকমের কিছু না হলেও হাওয়াটা প্রচন্ড। সত্যি বলতে কি, এই হাওয়ার জন্যই ঠান্ডাটা লাগে। হাওয়াটা কিন্তু নিচে নেই, উপরেই আছে। উপরটা একটা বড় চাতালের মতো - আমাদের সামনে একটা বড় বাড়ি রয়েছে। একজন আর্মির লোককে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম এই বাড়িটা চিনে অর্থাৎ আমরা ভারত আর চিনের একেবারে সীমানাতে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আমাদের সামনেই কাঁটাতারের বেড়া। বেড়ার ওপারে আরও কয়েকটা বাড়ি রয়েছে তার মধ্যে একটার গায়ে লেখা 'অফিস অফ্‌ ইন্টারন্যাশনাল মেইল এক্সচেঞ্জ'। সামনে যেসব পাহাড়গুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলো সবই চিনের সীমানার মধ্যে পড়ে। ঘাড় ঘুরিয়ে আশেপাশের পাহাড়ের গায়ে কয়েকটা চেক্‌পোস্ট দেখতে পেলাম যাদের মধ্যে কয়েকটা ভারতের আর বাকিগুলো চিনের। কিছুক্ষণ থেকে ছবিটবি তুলে আমরা নিচে নেমে এলাম। সিঁড়ির ধাপে একজায়গায় আর্মির লোকজন বার্গার বিক্রি করছে, দাম ৫০/-। আমাদের দলের সবার জন্য কিনে নিলাম। পরে খেয়ে দেখেছি বেশ ভালো।

মোবাইলে তোলা নাথু লা-র চাতালের উপরের ছবিগুলোতে পরে একটা মজার জিনিস দেখলাম। ছবিগুলোর টাইমস্ট্যাম্প ছবি তোলার সময়ের থেকে ঠিক আডাই ঘন্টা এগিয়ে গেছে। অর্থাৎ আমাদের ছবি তোলার সময় বেলা ১১ঃ৩০ টা হয়ে থাকলে ছবির টাইমস্ট্যাম্প দুপুর ২ টো। এটা নিশ্চয়ই চিনের স্থানীয় সময়ের কারণে হয়ে থাকবে। চাতালের নিচের তোলা ছবিগুলোতে কিন্তু এটা নেই।

কুপুপ লেক
কুপুপ লেক - নাথু লা থেকে প্রায় একঘন্টা নেমে এসে আমরা দাঁড়ালাম কুপুপ লেকের ধারে। এটা পাহাড়ের মধ্যে একটা জলাশয়। এখানকার উচ্চতা ১৩,০০০ ফুটের মতো। লেকটা বেশ সুন্দর আর বড়। এখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আমরা আরও নামতে শুরু করলাম।


বাবা মন্দিরের উপর থেকে নিচের দৃশ্য
পুরনো বাবা মন্দির - কুপুপ লেক থেকে আরও মিনিট পনেরো নিচে নামলে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য বাবা হরভজন সিং-এর পুরনো মন্দির। এর আগে গ্যাংটক ভ্রমণ-এর সময়ে বাবা হরভজন সিং-এর যে মন্দিরটা দেখেছিলাম, সেটা নতুন মন্দির। এই পুরনো মন্দিরের কাছেই সিপাই হরভজন সিং-এর বাঙ্কার ছিল, নতুন মন্দিরটা পরে তৈরি করা হয়েছে। এখানে কয়েকটা সিঁড়ি দিয়ে উঠে মন্দিরটায় ঢুকতে হয়। এটা আসলে হরভজন সিং-এর থাকার জায়গা ছিল। ভিতরে ছোট্ট ছোট্ট দুতিনটে ঘর, সেখানে ওনার খাট, চেয়ার, টেবিল ইত্যাদি ব্যবহৃত অনেক জিনিসপত্রই রাখা রয়েছে। বাইরে বেশ ঠান্ডা, কিন্তু ঘরের ভিতরের তাপমাত্রা খুবই আরামদায়ক। মন্দির থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে পাশে আরেকটা ঘর রয়েছে, এখানে ভারতীয় সেনার একটা ছোট মিউজিয়াম গোছের রয়েছে। সব জায়গাতেই আর্মির লোকজন মোতায়েন করা রয়েছে। এখানে আমাদের প্রসাদ দিল - কিসমিস।

নাথাং ভ্যালি
নাথাং ভ্যালি - বাবা মন্দির থেকে আরও মিনিট কুড়ি নিচে নেমে আসার পরে গাড়ি পাহাড়ের রাস্তার ধারে একজায়গায় দাঁড়ালো। এখান থেকে সামনে নিচের দিকে একটা সুবিশাল উপত্যকা ধরনের জায়গা দেখা যাচ্ছে। এরই নাম নাথাং ভ্যালি। চারদিকে পাহাড়ে ঘেরা প্রায় সমতল জায়গায় একটা ছোট গ্রাম। এর মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে পাহাড়ী নদী।

দুপুর দুটো বাজে, খিদেও পেয়েছিল। এখানে একটা মোমোর দোকান থেকে আমরা মোমো কিনে খেলাম। মোমো জিনিসটা এই অঞ্চলের একচেটিয়া আর এরা সবাই-ই জিনিসটা মোটামুটি একইরকম ভালো করে। আমি কলকাতায় অনেক জায়গায় মোমো খেয়েছি, কিন্তু এই দার্জিলিং-সিকিম এলাকার মোমোর মতো ভালো মোমো কলকাতায় প্রায় কোথাওই পাওয়া যায় না।

থাম্বি ভিউ পয়েন্ট
থাম্বি ভিউ পয়েন্ট - আরও মিনিট চল্লিশ নামার পরে আমরা পৌঁছলাম আমাদের দিনের শেষ দ্রষ্টব্য জায়গা - থাম্বি ভিউ পয়েন্ট। এটাও জিগজ্যাগ রাস্তার একটা ভিউ পয়েন্ট - এখান থেকে সিল্ক রুটের বেশ অনেকটাই দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের নিচের পাহাড়গুলোতে মেঘ এসে পুরো দৃশ্যটাকেই ঢেকে দিল। আমরা গাড়িতে উঠে হোমস্টের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

হোমস্টেতে এসে পৌঁছলাম তখন দুপুর সাড়ে তিনটে। আগেই বলা ছিল আমরা ফিরে এসে লাঞ্চ করব, সেইমতো আমাদের খাবার চটপট রেডি করে দিল। খাওয়া শেষ করতে বিকেল হয়ে গেল। পাহাড়ে সূর্যাস্ত হয় তাড়াতাড়ি, সূর্য সামনের উঁচু পাহাড়ের ওদিকে চলে গেলেই আস্তে আস্তে অন্ধকার নেমে আসে। এখানে অন্ধকার হয়ে গেলে আর কিছু করার নেই, কিন্তু দল বড় হওয়ার কারণে সময় যে কোথা দিয়ে কেটে যায় বোঝা যায় না। গল্প করতে করতেই সন্ধ্যেবেলা চা-পকোড়া আর রাত্রিবেলা ডিনারে রুটি চিকেন খেয়ে নেওয়া হল।

এখানে একটা কথা অবশ্যই বলব আর সেটা হল জুলুক ভ্রমণ পরিকল্পনা করার সময়ে জুলুকের উচ্চতার কথা অবশ্যই মাথায় রাখা উচিৎ। নাথু লা-র ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় না উঠলেও জুলুকের উচ্চতাই কিন্তু ১০ হাজার ফুটের মতো। এরপরে পুরনো বাবা মন্দির, কুপুপ লেক, থাম্বি ভিউ পয়েন্ট - এদের উচ্চতা আরও বেশি। এই উচ্চতায় অক্সিজেনের অভাব ঘটতে বাধ্য। আমাদের দলের অনেকেই নাথু লায় পৌঁছে গাড়ি থেকে পর্যন্ত নামেনি এবং পুরো সময়টাই ঘুমিয়েছে। তাই বয়স্ক মানুষদের যাওয়ার আগে একবার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়াই ভালো। আর যেকোনও বয়সের লোকজনকে সঙ্গে অবশ্যই রাখতে হবে কৌটর মধ্যে কর্পূর, হোমিওপ্যাথি ওষুধ কোকা-৩০ আর সম্ভব হলে একটা অক্সিজেন ক্যান (ওখানকার লোক্যাল কেনা নয়, কলকাতা বা কোনও বড় শহর থেকে কেনা)।

পদমচেনের হোমস্টের সামনে পুরো দল
রবিবার ১২ই অক্টোবর, ২০২৫ - পদমচেন থেকে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য মানখিম্‌-এ যাওয়ার দিন। পদমচেন থেকে মানখিমের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটারের মতো, যেতে ঘন্টা দেড়েকের বেশি লাগার কথা নয়। আমরা হোমস্টে থেকে চেক্‌আউট করে দশটা নাগাদ বেরোলেও মানখিম্‌ পৌঁছতে প্রায় দুপুর দুটো বেজে গেল। কারণ যাওয়ার পথে আমরা দুটো দেখার জায়গায় দাঁড়ালাম।

আরিতার লেক
আরিতার লেক - আরিতার লেক বা লামাপোখরি লেক মানখিম্‌-এর মধ্যেই পড়ে। এটা সিকিম রাজ্যের সবচেয়ে পুরনো স্বাভাবিক হ্রদ। এখানে ঢোকার এন্ট্রি ফি মাথাপিছু ১৫/- টাকা আর ছোটদের অর্ধেক। লেকটা বেশ বড়, খুব সুন্দর আর এখানকার রক্ষণাবেক্ষণও খুব ভালো। পুরো লেকটাকে ঘিরে বাঁধানো পাড়, পাড়ে উঁচু রেলিং রয়েছে। চাইলে হেঁটে পুরো লেকটা প্রদক্ষিণও করা যায়। লেকে বোটিং-এর ব্যবস্থা আছে। দুপুর বারোটা বাজে আর এখানে ঠান্ডাও পদমচেনের থেকে কম। তাই লেকের জলের স্বাভাবিক ঠান্ডাভাবটা আর সেইসঙ্গে গাছপালার ছায়াঘেরা জায়গাগুলো বেশ ভালো লাগছিল।

এখানে একটা চায়ের দোকান থেকে চা আর মোমো খাওয়া হল। মোমো যথারীতি সুস্বাদু। তারপর আমরা রওনা দিলাম আমাদের পরবর্তী গন্তব্যের দিকে।

রেহ্‌নক মনাস্ট্রি
রেহ্‌নক মনাস্ট্রি - আরিতার লেক থেকে আরও আধঘন্টা চলার পরে আমরা পৌঁছলাম রেহ্‌নক মনাস্ট্রিতে। মনাস্ট্রির বাইরের গেটটা খুব সুন্দর, গেটের ভিতর দিয়ে ঢালুপথে হেঁটে উপরে উঠতে হয়। মনাস্ট্রি জায়গাটা আমার খুব ভালো লাগে আর তার প্রধান কারণ এর শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ। এখানে কেউ কাউকে বিরক্ত করে না, পুজো দেওয়ার বালাই নেই - নিজের মতো করে সবকিছু দেখা যায়। সেইসঙ্গে মনাস্ট্রিগুলো সাধারণতঃ খুব রঙচঙে হয় বলেও আমার খুব ভালো লাগে। কোথাও ভাঙাচোরা নেই, নোংরা নেই - সবমিলিয়ে একটা মন ভালো হয়ে যাওয়া পরিবেশ। আমরা এখানে অবশ্য মনাস্ট্রির ভিতরে ঢুকতে পারলাম না কারণ বন্ধ ছিল। ভিতরটা না দেখতে পেলেও বাইরে থেকে দেখেই বেশ ভালো লাগল। মনাস্ট্রির একপাশে চারটে বিশাল প্রার্থনা চাকা বা প্রেয়ার হুইল রয়েছে, আমরা সেগুলো ঘুরিয়ে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে) পুণ্য সঞ্চয় করলাম (সত্যিই হয় কিনা জানিনা কিন্তু !)।

রেহ্‌নক মনাস্ট্রি থেকে আমাদের থাকার জায়গা মিনিট পাঁচেকের পথ - নাম 'কাঞ্চনজঙ্ঘা মিরর হোমস্টে'। আমাদের গাড়ি আমাদের যেখানে নামালো, সেখান থেকে হোমস্টে-তে ঢোকার কোনও গেট খুঁজে পেলাম না। হোমস্টের ম্যানেজারকে ফোন করে আমাদের আগমনবার্তা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি কয়েকজন লোক নিয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত হলেন। আর তাঁর থেকেই জানলাম এখান থেকে হোমস্টেতে পৌঁছতে আমাদের সিঁড়ি দিয়ে পাহাড়ী পথে কিছুটা উঠতে হবে। হোমস্টের একেবারে সামনে গাড়ি পৌঁছনোর রাস্তা নেই। এটা আমাদের দলের কয়েকজন বয়স্ক লোকের পক্ষে বেশ অসুবিধেজনক। কিন্তু কিছু করার নেই, এইভাবে ছাড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা মিরর হোমস্টেতে পৌঁছনোর কোনও উপায় নেই। যদিও নিচ থেকে মালপত্র হোমস্টের লোকেরাই তুলেছে আর ওঠার সময়ে আমাদের পাশে তারা সবসময়েই থেকেছে, কিন্তু তাও বলব যদি সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার ব্যাপারে কারুর বেশি সমস্যা থাকে, তাহলে কাঞ্চনজঙ্ঘা মিরর হোমস্টে বুকিং না করাই বাঞ্ছনীয়।

তবে এই একটা অসুবিধে বাদ দিলে কাঞ্চনজঙ্ঘা মিরর হোমস্টে-র মতো থাকার জায়গা আমি খুব কম দেখেছি। এর ঘর, প্রাকৃতিক দৃশ্য, খাওয়াদাওয়া, পরিষেবা, ম্যানেজার ও অন্যান্য কর্মচারীদের আন্তরিকতা - সবকিছুই অতুলনীয়। আপাতত খুব কম গেস্ট আছে, তাই ম্যানেজারমশাই প্রায় আট-দশটা ঘর আমাদের ছেড়ে দিয়ে বললেন নিজেদের পছন্দমতো ঘর বেছে নিতে। কোনও ঘরে দুটো বিছানা, কোনওটায় তিনটে, কোনওটায় চারটে, একটায় তো ছ'টা। আমরা আমাদের সুবিধেমতো ছটা ঘর বেছে নিলাম।

হোমস্টের ছাদ থেকে আরিতার লেক
দুপুর দুটো বাজে, তাই আমরা আগে লাঞ্চ করে নিলাম। হোমস্টেটা বেশ বড় আর একটা বেশ সুন্দর মাথাঢাকা ছাদ আছে। ম্যানেজার আমাদের সেখানে নিয়ে গিয়ে দেখালেন সেখান থেকে আরিতার লেক দেখা যায়। সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘাও দেখা যায়, তবে সেই দিকটা আপাতত মেঘে ঢাকা। এখান থেকে জুলুকের পাহাড়ও দেখা যায়, সেটাও দেখলাম। সারা বিকেল সন্ধ্যে আমরা ছাদে বসে কাটিয়ে দিলাম।

মোমো হাতে আমরা
হোমস্টের একটা খুব সুন্দর ব্যালকনি আছে, সেখানে অনেকে একসঙ্গে বসে গল্পগুজব, খাওয়াদাওয়া করা যায়। সন্ধ্যেবেলা আমরা এখানে বসে হোমস্টের তৈরি চিকেন মোমো খেলাম (এটা কিন্তু প্যাকেজের মধ্যে নয়)। যথারীতি এরা মোমোগুলো খুবই ভালো করেছিল।


ডিনারে ভাত / রুটি আর চিকেনের পরিবর্তে এঁরা আমাদের ফ্রাইড রাইস আর চিলি চিকেন অফার করলেন। এরকম প্রস্তাবে কে আর অসম্মত হয় ? ডিনার করে যে যার ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়লাম।

সোমবার ১৩ই অক্টোবর, ২০২৫ - এবার পাহাড় থেকে নেমে আসার পালা। চেক্‌আউট করে হোমস্টে থেকে বেরোলাম সকাল আটটায়। আমরা আগেরদিনই খবর পেয়েছিলাম মেরামতির কাজের জন্য ১০ নং জাতীয় সড়কের একটা বড় অংশ তিনদিন বন্ধ থাকবে। এ'জন্য আমাদের গাড়িদুটোকে ৬০ কিলোমিটারের মতো বেশি ঘুরতে হবে আর সে'জন্য গাড়িপিছু আমাদের আরও ১,৫০০/- টাকা করে বেশি দিতে হবে। এই রাস্তা দিয়ে নামতে হলে পথে লাভা পড়ে, তাই আমি লাভা মনাস্ট্রিটা আমাদের ভ্রমণের মধ্যে যোগ করে দিলাম।

লাভা মনাস্ট্রি
লাভা মনাস্ট্রি - লাভা মনাস্ট্রিতে পৌঁছলাম বেলা এগারোটা পনেরো নাগাদ। এইসময়ে প্রার্থনার জন্য মনাস্ট্রি কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে, সাড়ে এগারোটায় খোলে। মনাস্ট্রি খুললে আমরা ভিতরে ঢুকলাম। আমি আর অমৃতা লাভা মনাস্ট্রিতে আগেও এসেছি রিশপ ও কোলাখাম ভ্রমণ-এর সময়ে, আর দেখে খুব ভালো লেগেছিল বলেই আরেকবার ঢুকলাম। মনাস্ট্রিটা খুব বড়, এর অনেকগুলো তলা। অত্যন্ত পরিষ্কার আর রঙিন। এখানে ছোট-বড় অনেক লামাদের দেখা যায়। এখানে আধঘন্টা থেকে আমরা আবার ফেরার পথ ধরলাম।

দুপুর দেড়টা নাগাদ আমাদের ড্রাইভাররা একজায়গায় থামল লাঞ্চ করার জন্য। আমরাও এখান থেকে রুটি-তরকারি, ফ্রায়েড রাইস, মোমো ইত্যাদি দিয়ে লাঞ্চ করে নিলাম। খরচ হল ৮২৫/- টাকা। নিউ জলপাইগুড়ি পোঁছতে প্রায় বিকেল চারটে বেজে গেল। গাড়ি যেখানে নামালো সেখান থেকে স্টেশনে পৌঁছনোর জন্য আবার মালপত্র নিয়ে ট্যাং ট্যাং করে পনেরো মিনিট হাঁটতে হল। তারপর স্টেশন থেকে রাতের খাবার কিনে নেওয়া হল। আমরা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সরাসরি ফেরার ট্রেনের টিকিট পাইনি, তাই আমাদের বারসোই হয়ে ব্রেকজার্নি করে ফিরতে হবে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে আমাদের ট্রেন সন্ধ্যে ৬ঃ২০ মিনিটে গুয়াহাটি ওখা এক্সপ্রেস। সেই ট্রেনে বারসোই পৌঁছলাম রাত ৮ঃ২৫ মিনিটে। তারপর বারসোই স্টেশনে বসেই রাতের খাবারগুলো খেয়ে ফেললাম। বারসোই থেকে রাত ১০ঃ০২ মিনিটে রাধিকাপুর কলকাতা এক্সপ্রেসে উঠে মঙ্গলবার ১৪ই অক্টোবর, ২০২৫ সকাল সাড়ে ছটায় পৌঁছলাম কলকাতা স্টেশনে। ভ্রমণ শেষ !

সারসংক্ষেপ ঃ

১. পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার জন্য একটা বেশ পরিচিত জায়গা হল জুলুক বা সিল্ক রুট। পাহাড়ী পথে অনেকগুলো জিগজ্যাগ রাস্তার দৃশ্যের জন্য জুলুক বিশেষভাবে বিখ্যাত।

২. জুলুকে যাওয়ার সবথেকে ভালো সময় হল আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস। আর জানুয়ারী থেকে মার্চ মাসের মধ্যে গেলে এখানে বরফে ঢাকা পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে।

৩. জুলুক বেড়াতে গেলে জুলুকের হোমস্টেগুলোতে না থাকাই ভালো। কাছাকাছির মধ্যে থাকার জন্য পদমচেন একটা খুবই সুন্দর যায়গা।

৪. আমরা জুলুক ভ্রমণের পুরোটাই প্যাকেজ বুকিং করেছিলাম 'বোহেমিয়ান আগন্তুক' নামক ট্যুরিস্ট কোম্পানীর মাধ্যমে। এদের যোগাযোগের ওয়েবসাইট হল https://www.bohemianagantuk.com/ আর ফোন নম্বর 8910651295 / 9163017277. এদের ব্যবস্থাপনা খুবই ভালো এবং এরা আমাদের যে হোমস্টেগুলোয় থাকার ব্যবস্থা করেছিল, সেগুলোও যথেষ্ট ভালো। সেইসঙ্গে এদের রেটও যাকে বলে যথোপযোগী।

৫. হোমস্টের বুকিং সাধারণতঃ থাকা খাওয়া মিলিয়ে মাথাপিছু একটা প্যাকেজ হয়। খাওয়ার মধ্যে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চে ভাত / রুটি ডিমের কারি, সন্ধ্যের স্ন্যাক্স আর রাতে ভাত / রুটি আর চিকেন দেওয়া হয়ে থাকে।

৬. জুলুকের উচ্চতা বেশি হওয়ার কারণে এখানে গেলে অক্সিজেনের অভাবজনিত সমস্যাগুলো হওয়া স্বাভাবিক, তাই তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলো সঙ্গে নিয়ে যাওয়া দরকার। ছোট কৌটয় কর্পূর, হোমিওপ্যাথি ওষুধ কোকা-৩০ সঙ্গে রাখতেই হবে আর প্রয়োজন হলে যাওয়ার আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া ভালো।

৭. একেবারে চিনের বর্ডারে হওয়ার কারণে নাথুলায় যাওয়ার অনুমতি সবসময়ে পাওয়া যায় না। তাই যদি নাথুলায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে আগে খোঁজ নিয়ে যাওয়া দরকার।

৮. জুলুকের লোক্যাল সাইটসিয়িং-এর সবকটা জায়গাই খুব সুন্দর, কোনওটাই বাদ দেওয়ার মতো নয়। নাথুলা-টা জুলুকের সাইটসিয়িং-এর মধ্যে পড়ে না, তার জন্য আলাদাভাবে পারমিট করাতে হয়।

৯. পদমচেন থেকে জুলুক ঘুরে আসতে সবমিলিয়ে সাত-আট ঘন্টা মতো লাগে। জুলুক বা নাথুলাতে কোনও খাবার হোটেল বা দোকান নেই, তাই সঙ্গে কিছু হাল্কা খাবার রাখা দরকার আর লাঞ্চ হোমস্টেতে ফিরে আসার পরে করতে হবে।

১০. মানখিম জায়গাটায় আরিতার লেক আর মনাস্ট্রি ছাড়া কিছুই দেখার নেই। কিন্তু এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এখানে একটা রাত থাকা যেতেই পারে।

উপসংহার ঃ

জুলুক
যত দিন যাচ্ছে, ট্যুরিস্টের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাহাড়ে ট্যুরিস্ট স্পটের সংখ্যাও ততই বেড়ে চলেছে। বেশ কয়েকবছর আগে যে জায়গাগুলো লোক্যাল সাইটসিয়িং করেই দেখে আসা যেত, এখন সেখানেও কয়েকটা করে হোমস্টে তৈরি হয়েছে, আর লোকজন সেখানেও দুতিনদিন 'বিশ্রাম নিতে' চলে যায়। আমি অবশ্য কখনও কোনও জায়গায় বিশ্রাম নিতে যাই না, সত্যি বলতে কী, আমি এত কিছু পরিশ্রমই করি না যে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাওয়ার দরকার হবে ! আমি বেড়াতে যাই বেড়ানোর জন্য আর সেটাই আমার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। ইস্ট সিকিমের জুলুক এরকম একটা বেড়ানোরই জায়গা। জায়গাটা অনেক পুরনো হলেও এখানকার পর্যটনটা খুব পুরনো নয়, আর দেখার জায়গাও অনেক আছে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়াবাড়িরকমের বেশি নয়, তাই কোথাও বেশি ভীড় নেই। রাস্তাও খুব সুন্দর, কোথাও সেরকম ভাঙাচোরা নেই। আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে ঠান্ডা সাংঘাতিক কিছু নয়, বরং উপভোগ্য। পর্যটক কম তাই হোটেলও কম আর তাই পরিষেবাও ভালো। সবমিলিয়ে এককথায় এই ভ্রমণটা বেশ উপভোগ্য। এটুকু জোর দিয়ে বলতে পারি সঠিকভাবে পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা করে যেতে পারলে জুলুকের মতো মনোরম পর্যটনস্থান আমাদের আশেপাশে কমই আছে !

জুলুক ভ্রমণের আরও ছবি দেখতে হলে click here.

2 comments: